logo
For any kinds of physical problem contact with us or visit at our chamber.
+8801816566944
info@drsofiqul.com
70/B, East Panthpath, Dhaka
Instagram Feed
Site Statistics
Search

জরায়ু নির্দিষ্টস্থানে অবস্থানের ব্যতিক্রম জনিত ব্যাধি সমূহ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

সাধারণত দুর্বলতা, অপারেশন, ডেলিভারীর সময় অত্যধিক চাপ পড়া ইত্যাদি কারণে নারীদের জরায়ুস্থানের বিচ্যুটি দেখা দেয়। তারপর দেখা যায়, কারো জরায়ু সারাক্ষণই বেরিয়ে থাকে আবার কারোটা পায়খানার সময় কোথানি দিলে বেরিয়ে পড়ে। তারপর ঠেলে ঠেলে ভেতরে ঢুকাতে হয়। মোটকথা এটা নারীদের জন্য একটা বিরাট বিরক্তিকর রোগ। এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা প্রথমে এই রোগ সারানোর জন্য ঠেস (pessaries) দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এই ঠেস দেওয়াতে আসলে এই রোগ আরোগ্য হয় না এবং সম্ভাবনাও খুব কম থাকে। ফলে তাদের শেষ সম্বল হলো অপারেশান/জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া।কিন্তু জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়াতে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অথচ হোমিওপ্যাথিতে কোন প্রকার ঠেস ছাড়া এবং অপারেশান ছাড়াই শুধুমাত্র ঔষধেই এই রোগ সারানো যায়।

জরায়ুর স্থানচ্যুতি সাধারনত দুই প্রকারের হয়ে থাকে –

১. জরায়ুর বডি পিছনের দিকে ঝুঁকিয়া পড়া বা রেট্রোফ্লেকশন অব দি ইউটেরাস (Retroflexion of the uterus): জরায়ু স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ভিন্ন বিপরীত অবস্থানে থাকে। কোন ক্ষেত্রে কষ্ট হয় না বা অন্য ক্ষতি হয় না। কখনো কখনো কমরে ব্যথা হয়, যৌন সঙ্গমে ব্যথা অনুভুত হয় ও সন্তানাদি হয় না

২. জরায়ু নীচের দিকে নামিয়া যাওয়া বা প্রলাপ্স অব দি ইউটেরাস (Prolapse of the uterus): ইউটেরাস বা জরায়ু তাহার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি হওয়াকে ইউটেরাইন প্রলাপ্স বলে।

 

প্রলাপ্সের প্রকার ভেদঃ

১.  ভ্যাজাইনার সম্মুখ দিকের দেয়াল, তৎসহ প্রস্রাবের থলে বাহির হওয়া বা সিসটোসিল ( Cystocele )।
২.  জরায়ু বাহির হওয়াঃ  ইউটেরাইন প্রলাপ্স এর ক্ষেত্রে ইউটেরাস কোন অবস্থানে আছে তাহার উপর নির্ভর করে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগগুলিকে সাধারণত ডিগ্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ক) প্রথম ডিগ্রীঃ জরায়ুর সারভিক্স (Cervix) নিজ স্থান হইতে নামিয়া ভ্যাজাইনার মধ্যে থাকা ।
খ) দ্বিতীয় ডিগ্রীঃ  জরায়ুর সারভিক্স(Cervix) নীচে নামিয়া সন্তান প্রসব রাস্তার মুখ পর্যন্ত আসা ।
গ) তৃতীয় ডিগ্রীঃ জরায়ুর সারভিক্স (Cervix) প্রসব মুখের বাহিরে আসা ।
ঘ) চতুর্থ ডিগ্রীঃ প্রোসিডেনসিয়াঃ সমস্ত জরায়ুসহ সন্তান প্রসব রাস্তার বাহিরে আসা ।

রোগের কারণঃ বিভিন্ন কারণে ইউটেরাইন প্রলাপ্স হতে পারে যেমন-

১. জন্মগতভাবে লিগামেন্টের দুর্বলতা।

২. জন্মগতভাবে লম্বা সার্ভিক্স(Cervix)।

৩. জন্মগতভাবে শর্ট ভ্যাজাইনা

৪. জন্মগতভাবে ইউটেরাস ভাল্বের বাহিরে সংস্থাপিত হলে।

৫. অধিক সন্তান ধারণের ফলে হতে পারে।

৬. লেবারের সময় বা প্রসবের সময় প্রসবের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপের সময় অর্থ্যাৎ বাচ্চা প্রসব এবং প্লাসেন্টা ডেলিভারীর সময় যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয় (প্রসবের সময় যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়)

৭. ভুল পোষ্টনেটাল কেয়ার (ডেলিভারীর পরবর্তি ব্যবস্থাপনা যদি সঠিক না হয়)

৮. পেটে চাপ পড়ার কারণে হতে পারে যেমন-ক্রনিক কাশি, ক্রণিক কনষ্টিপেশন, ভারী জিনিস উত্তোলন, এজমা ইত্যাদি। কিন্তু অনেকে দীর্ঘদিন কাশি থাকলেও সঠিক চিকিত্সা গ্রহণ করেনা বা অনেক দেরী করে চিকিত্সকের নিকট আসেন কিন্তু এটি মোটেও সঠিক নয়। তেমনি ক্রণিক কনষ্টিপেশন বা সিভিয়ার কনষ্টিপেশনের কারণে রোগীকে মল ত্যাগ করার জন্য দীর্ঘ সময় বেগ দিয়ে মল ত্যাগ করতে হয় যা জরায়ুর স্থানচ্যুতির জন্য দায়ী। অনেক সময় মহিলারা অসাবধানতাবশত: অনেক ভারী বস্তু উত্তোলন করে থাকেন যাহার ফলে জরায়ুর স্থানচ্যুতি হতে পারে। সুতরাং জরায়ুর স্থানচ্যুতি থেকে রক্ষা পাওয়া জন্য আমাদের এই সমস্ত বিষয়ের উপর দৃষ্টি রাখতে হবে।

সামগ্রীক লক্ষণঃ

১. মনে হয় যোনী পথে কিছু বের হয়ে আসে।

২. যোনীতে বেদনা দায়ক অস্বস্থি।

৩. কোমড়ে ব্যথা, হাটলে বাড়ে।

৪. বার বার প্রস্রাবের বেগ।

৫. প্রস্রাব এর আগে কষ্ট।

৬. রিটেনশন অব ইউরিন।

৭. আলসার।

করনীয়ঃ

  • পরিপূর্ণ বিশ্রাম ও সুনিদ্রা প্রয়োজন।
  • ডেলিভারির তিন দিন পরে দুই পা একবার সোজা করিতে হইবে, আবার গুটাইতে হইবে, এইরূপ দিনে কয়েকবার করলে পেলভিসের (যাহার উপর জরায়ু থাকে) মাংসপেশি সবল হবে।
  • স্তন দানকালে মায়ের উৎকৃষ্ট খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • রেটোফ্লেকশন থাকলে হজ পেসারি (Hodge Pessary) দ্বারা ঠিক করতে হবে।
  • অধিকাংশ রোগীর মধ্যে লিউকোরিয়া থাকে। লক্ষণ সাদৃশ্যে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।
  • রিংপেসারি ব্যবহারে জরায়ু নিজ স্থানে থাকে । ইহার মধ্যে শরীরের অবস্থা যাহাতে ভাল থাকে সেই দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

 

চিকিত্সাঃ

প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে, জরায়ুর রেট্রোফ্লেকশন থাকলে হজ পেসারি হজ পেসারি (Hodge Pessary) এবং জরায়ুর প্রোলাপস থাকলে রিং বা রাবার পেসারি ব্যবহার করা হয়। এতে কাজ না হলে সাধারনত অপারেশন এর মাধ্যমে জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

হোমিওপ্যাথি সম্পূর্ণ লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায়, কোন রকম অপারেশন ছাড়াই জরায়ুর প্রোলাপ্স শুধুমাত্র ওষুধ সেবনের মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। কারণ রোগের বিবিধ লক্ষণ, রোগীর পীড়ার সাধারণ লক্ষণ, বিশেষ লক্ষণ, ধাতুজ লক্ষণ (Eonstitutional Symptoms), মানসিক লক্ষণ (Mental Symptoms) প্রভৃতির সাথে ঔষধের লক্ষণসমষ্টির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করলে দ্রুত ও সমূলে রোগ আরোগ্য হয়। এক্ষেত্রে একজন উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সরকারি রেজিষ্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

——————————————————————————————————————————-

ডাঃ মোঃ শফিকুল আলম

বি এইচ এম এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), এম ডি (এ এম), পি এইচ ডি (ভারত)

সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান- হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসী বিভাগ,

বিভাগীয় প্রধান- শিশু ওয়ার্ড,

সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুর-১৪. ঢাকা-১২০৬।

যে কোন তথ্য ও পরামর্শের জন্যে- ০১৭১২-৭৯৬৫০৫।

Sorry, the comment form is closed at this time.